পোস্টগুলি

মে, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সবুজের খোঁজে

               কবিতা:- সবুজের খোঁজে।                 কবি:- সোহন ঘোষ।                                          ১ শহরের বাড়িতে আর ভালো লাগে না, বাইরে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে—আলোর খোঁজে। কিন্তু এ শহরে আলো মেলে না, মেলে না সবুজের ছায়াও। অট্টালিকা ছায়ায় ঢেকে যায় সূর্যের মুখ। কখনো গুলির মোড়ে যদি চোখে পড়ে আকাশের ছোঁয়া, তবু তাকিয়ে থাকার ফুরসত হয় না—যানবাহনের শব্দে মন ঘুরে যায়, নজর সরিয়ে দেয়। রাতে ঘুমাতে গেলে চারপাশ জুড়ে শব্দের হাহাকার, কান জ্বলে, ঘুম আসে না, বুকে চেপে আসে দুশ্চিন্তা। এই শহরে মনোযোগ দিয়ে পৃথিবীকে দেখা যায় না, বুক ভরে নিতে পারি না শ্বাস। গ্রামের কথা মনে পড়ে, মন করে হাঁসফাঁস—সেখানেই লুকিয়ে থাকে স্বপ্নের একটু শান্তি।                          ২ এ কী আজ? গ্রামেও এসে পড়েছে যন্ত্রমানবের ছায়া, জঙ্গল কেটে গড়ে উঠছে কার...

শিক্ষাতেই নিহিত সত্যজয়

     কবিতা:- শিক্ষাতেই নিহিত সত্যজয়।             কবি:- সোহন ঘোষ। পিতাকে দেখিয়া পুত্র জিজ্ঞাসা করিল,—" তুমি এতোক্ষণ কোথায় ছিলে, কহ মোরে, যে গৃহে ফিরিলে না, গত দিবানিশি?" পিতা কহিল,— "ছিলাম আমি হসপিটালে, রমনের নিকটে।" রমনের নাম শ্রবণ করিয়া পুত্র ভীষণরূপে ক্রুদ্ধ হইল,— "পিতা, তুমি কি ভুলিয়া গেছ রমনের অত্যাচার? যে রমন তোমাকে ঠেলিয়াছিল আঁধারে, যে চাহিয়াছিল তোমার অনিষ্ট মনেপ্রাণে, তাহার সেবা করিয়াছো তুমি দিবানিশি জাগিয়া! তুমি কি ভুলিয়া গেছ তাহার দান করা আঘাত?" পিতা মৃদু হংসিতে হংসিতে কহিল,— "আঘাত কি কভু বিস্মৃত হয়, পুত্র? মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তাহার চিহ্ন মনে গাঁথিয়া থাকে।" এই শুনি পুত্র কহিল,— "তবে তুমি কেন, পিতা, তাহার অনিষ্টর কথা চিন্তা না করিয়া, তাহার সেবা করিতে গেলে?" পিতা পুত্রের কাঁধে কর স্পর্শ করিয়া কহিল,— "সে আপন কর্ম করিয়াছে—ঠেলিয়াছিল আমায় আঁধারে। তবু আমি কেমন করিয়া ঠেলিব তাহাকে সেই আঁধারে? সে অনিষ্ট করিয়াছে আমার, তা বলিয়া আমি কিরূপে করিব তাহার অনিষ্ট? তবে রমন ও আমার মধ্যে পার্থক্য কী থাকিল? রমন তো আমার জীবনে...

আমরা শ্রমজীবী মানুষ।

        কবিতা:- আমরা শ্রমজীবী মানুষ।         কবি:- সোহন ঘোষ। আমরা শ্রমজীবী মানুষ রে ভাই,                    শ্রমজীবী মানুষ।  আমাদের চাহিদা নেই,  তাই মনে কোনো কষ্টও নেই। আমরা শ্রমজীবী মানুষ রে ভাই,                    শ্রমজীবী মানুষ।  পকেটে টাকা নেই আমাদের,  তাই সম্মানটাও মেলে না, সমাজের কিছু ধনীদের  দৃষ্টিতে। আমরা শ্রমজীবী মানুষ রে ভাই,                  শ্রমজীবী মানুষ।  শরীর যেন ধাতব কোনো যন্ত্র,  দিনরাত খাটি, তবু ক্লান্তি — যেন নিষিদ্ধ মন্ত্র। আমরা শ্রমজীবী মানুষ রে ভাই,                   শ্রমজীবী মানুষ।  দিন আনি দিন খাই,  অসুখ হলেও বিশ্রাম নাই। আমরা শ্রমজীবী মানুষ রে ভাই,                   শ্রমজীবী মানুষ।  মালিকের দমন চলে অবিরত,  তবু আমরা মুখ বুজে সহ্য...

চেতনার চক্ষু

              গল্প:- চেতনার চক্ষু।              লেখক:- সোহন ঘোষ।  নিশির ঘোষ — এক সাধারণ গ্রামের ছেলে, যার দিন কেটে যায় ফোনের পর্দায় আর টিভির স্ক্রিনে। কাটুন, ভূতের সিনেমা, ইউটিউব, ফেসবুক — এই যেন তার জীবনের মানে। পড়াশোনার পাতায় ধুলো জমে, আর ঘরভর্তি থাকে অলস সময়। তার বাবা একজন গোয়ালা — রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে প্রতিদিন গরুর দুধ থেকে ছানা তৈরি করেন। কখনো শহরের মিষ্টির দোকানে পৌঁছে দেন, কখনো ঘুরে ঘুরে দুধ বিক্রি করেন। সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষ তিনি — যিনি কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে শুধু সংসারই চালান না, ছেলের ভবিষ্যতের জন্যও গড়ে তোলেন স্বপ্নের ভিত। একদিন দুপুরবেলা, কাজ সেরে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে নিশিরের বাবা দেখেন — ছেলে পড়ার বই পাশে ফেলে ফোনে ভূতের ভিডিও দেখছে। এমন কাণ্ড দেখে তাঁর চোখে যেন আগুন জ্বলে ওঠে। গলা উঁচিয়ে বলে ওঠেন, — "তুই পড়াশোনা না করে ফোনে ভিডিও দেখছিস? পড়বি না? তাহলে মাঠে গিয়ে গরু চড়াবি! জানিস, কত কষ্ট হয় গরুর পেছনে ঘুরতে, ছানা দোকানে পৌঁছে দিতে, দুধ নিয়ে দৌড়াতে?" নিশির এতক্ষণ চুপ কর...

ভালোবাসার ছায়া

    কবিতা:- ভালোবাসার ছায়া।      কবি:- সোহন ঘোষ।  মা আমার কাছে ভগবানের সমান, মাকে করি তাই হৃদয়-পূজা। মা না থাকলে পৃথিবী লাগে শূন্য, মা পাশে থাকলে ব্যথা যায় নিমিষে বিয়োন। মায়ের ছোঁয়ায় জেগে ওঠে শান্তি, তার কথায় মেলে স্নেহভরা ভক্তি। মায়ের মমতা যায় না মাপা— তার সৌন্দর্যে হার মানে ফুলের রূপ। তার দীপ্তিতে ম্লান হয়ে যায় রবি, মায়ের ভালোবাসা—নিঃস্বার্থ, নিরবধি। মা-ই হন আঁধারে সাহসের সূর্য, দুঃখের রাতেও জ্বালান আশার প্রদীপ। জ্বর হলে মা থাকেন পাশে, জাগেন রাতভর আমার আশে-পাশে। জননী মাগো, তুমি আমার দেবতা— তোমার মতো স্নেহ কোথায় যাবে পাওয়া? কে দেবে এমন নির্মল প্রেম? তোমার তুলনা নেই, তুলনাটাই এক ভ্রম। তুমি প্রাণের স্পন্দন, তুমি জীবনের আলো। ভালোবাসার উৎস তুমি— হৃদয়-গভীরে জ্বলন্ত দীপ্তালো। মা না থাকলে এই দুনিয়ায়, সুশিক্ষা দেবে কে শুদ্ধ হৃদয় নিয়ে? কে বাসবে ভালো নিঃস্বার্থ ছায়ায়?

তোমার ছায়ায় কবিতা লিখি

  কবিতা:- তোমার ছায়ায় কবিতা লিখি।     কবি:- সোহন ঘোষ। বাড়ির সম্মুখে শান্ত পুকুর, জলে যেন রৌদ্রের নৃত্য। আলো-ছায়ার খেলাঘরে বুনে চলে মুগ্ধ চিত্র। পাশে দাঁড়ায় বট ও তেতুল, উঁচু শিরে তাল-নারকোল। বটবৃক্ষে পাখিরা গায়— বসন্তের ছোঁয়ায় গীতিময় অনুল। নীরব ডালে ছানারা জাগে, ডাকে কোকিল, জাগায় মন। পাখিদের কণ্ঠে মধুর গুঞ্জন— ঘুম নামে চোখে, বসে থাকি যদি ছাদে। আছে পাশে ফুলের গাছে, পল্লব কাঁপে হাওয়ার বাঁকে। অলি আসে মধুর লোভে— ওড়ে বেড়ায় নানা ঢঙে। পুকুর জলে ঢেউয়ের ছন্দ, হাওয়ায় বয়ে বয়ে বেজে ওঠে বন্দ। সব মিলিয়ে সুরের মায়া— প্রকৃতি গায় শান্তির গান। পুকুরের ওপারে, দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে একটি মাঠ, বিস্তৃত প্রান্তর। যদি না দেখো—না বুঝিবে সেই কথা, কী অপার শান্তি, কী নীরব ব্যথা— লুকায় যেন সহজ স্বপ্ন-ছায়া। ছাদে বসে চেয়ে থাকি, নীরব দৃশ্য প্রাণে আঁকি। গ্রীষ্মরাত্রির জোছনায়, ছাদে উঠে জলের পাশে— হাওয়ার ছন্দে, ঢেউয়ের ভাষায়— চোখ বুজে আসে ঘুমের পাশে। প্রকৃতির মাঝে কবিতা লিখি, সবুজ পাতায় স্বপ্ন আঁকি। আমি ভাবি শব্দ, তারাই দেয় ছন্দ— হাওয়ার স্পর্শে, জোছনার চোখে— তাদেরেই নিয়ে গড়...

প্রেম, কি শুধু?

     প্রহসন:- প্রেম, কি শুধু?        লেখক:- সোহন ঘোষ। চরিত্রসমূহ: আনির – এক সাদাসিধে তরুণ কবি। যে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাই। মানুষের মধ্যে মানবতার আলো জাগিয়ে তোলে।  কাকা — এক বাস্তববাদী পুরুষ, যিনি প্রেমের গভীরতা ও বাস্তবতা জানেন। তার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আনি’র জন্য দিকনির্দেশক, যদিও তিনি অনেক সময় তার মনোভাবের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান। ---- দৃশ্য ১: কাকার বসার ঘর সময়: সন্ধ্যা। ঘরে কাকার আরামকেদারা, পাশে চায়ের কাপ রাখা। আনির হাতে খাতা। (আনির কাকাকে খাতা এগিয়ে দেয়। কাকা মন দিয়ে পড়েন।) কাকা (চোখ সরু করে, একটু মুচকি হেসে): আরে ভাইপো, তোর কবিতা পড়ে ভালোই লাগল। তবে সবসময় এই সমাজ, বিদ্রোহ, নৈতিকতা, মানবিকতা এসব নিয়ে পড়ে থাকলে হবে ? একটাও প্রেমের কবিতা নেই তোর খাতায়! প্রেম নিয়ে কিছু লিখ না? আনির (হতভম্ব মুখে): কাকা... প্রেম মানে কী? কাকা (হাসতে হাসতে): ওরে রে পাগল! প্রেম মানে বুঝিস না? প্রেম মানে... যাকে তুই ভালবাসিস। আনির (গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে): ঠিক আছে, কাকা... লিখে আনছি। (আলো ম্লান হয়।) --- দৃশ্য ২: পরদিন সকাল আবহ: পাখ...

সাফল্য যদি না আসে,ভুলে যেও

    কবিতা:- সাফল্য যদি না আসে,ভুলে যেও।      ‌       কবি:- সোহন ঘোষ। অস্ত্র ফেলো, হিংসা ত্যাগ করো,  ভালোবেসে পথ চলো।  দুনিয়া যদি না বদলায়,  তাহলে আমায় ভুলে যেও। লোকের সমালোচনা না করে,  নিজেকে দেখো আগে।  সফলতা যদি না আসে জীবনে,  তাহলে আমায় ভুলে যেও। লোকের ক্ষতির কথা না ভেবে,  নিজের উন্নতির কথা ভাবো আগে।  যদি তোমার জীবন না বদলায়,  তাহলে আমায় ভুলে যেও। অন্যের দোষ না খুঁজে,  নিজের দোষ খুঁজো আগে।  জীবনে তুমি যদি জয়লাভ না করো,  তাহলে আমায় ভুলে যেও। যদি একদিন বাধা আসে জীবনে,  চেষ্টা করো হার না মেনে।  জীবনে যদি জয়ী না হও,  তাহলে আমায় ভুলে যেও। জীবনে চলার পথে,  ভুল তো হবেই সাথে।  তা বলে কি তুমি হার মেনে,  বসে থাকবে ঘরে? বাবা-মায়ের কথা শুনে চলো,  মন দিয়ে কাজটা করো।  তবেই আসবে সুখের আলো,  দুঃখ যাবে মিলিয়ে কালো। তবেই আদর্শ হবে চরিত্র,  গর্ব করবে বাংলা সচিত্র। ------------------------------------------------ --------------------------...

প্রতিশোধ নয়, করে দেখাও

      গল্প:- প্রতিশোধ নয়, করে দেখাও।             লেখক:- সোহন ঘোষ শ্যামাকান্ত, অনিল আর রজনী—সবসময় তিনজন একসঙ্গে থাকে। রজনী,শ্যামাকান্ত ও অনিলের থেকে এক বছরের বড় হলেও, ওদের বন্ধুত্ব ছিল অটুট। প্রতিদিনের মতোই আজও তারা পার্কের বেঞ্চে বসে সময় কাটাচ্ছে। শ্যামাকান্ত ও রজনী গল্পে মেতে থাকলেও, অনিল একেবারে চুপচাপ। মুখে কোনো কথা নেই, চোখে চিন্তার ছাপ। শ্যামাকান্ত লক্ষ্য করল ব্যাপারটা। সে জিজ্ঞেস করল, —“কি হয়েছে ভাই অনিল?” অনিল মুখ ফিরিয়ে বলল, —“কিছু না।” রজনী ততক্ষণে অনুভব করেছিলেন কিছু একটা হয়েছে অনিলের। রজনী বলল, —“কিছু হয়নি বললেই কি হবে? আমরা তো তোকে চিনি। তুই কষ্ট পাচ্ছিস, সেটা বুঝতে পারছি।” শ্যামাকান্তও যোগ দিল, —“তোর মুখ দেখে মনে হচ্ছে তুই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছিস। বল তো, কী হয়েছে?” দুজনের এমন আন্তরিক কথায় অনিল আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ল। দু’জন বন্ধু তাকে কাছে টেনে বলল, —“বল আমাদের, আমরা তোর প্রকৃত বন্ধু। তোকে বোঝার চেষ্টা করব। এবং চেষ্টা করব যাতে তোর কষ্ট দূর হয়।” অনিল ধীরে ধীরে বলল, —“আমি কি ভুল করে সায...

শিকারির ছায়ায় প্রকৃতির নীরবতা

 অনুগল্প:- শিকারির ছায়ায় প্রকৃতির নীরবতা।   লেখক:- সোহন ঘোষ। সূর্য উদিত হইয়াছে। পুষ্প বিকশিত হইয়াছে।চারিদিকে সবুজের সমারোহ, পাখির কূজন, নদীর কলকল ধ্বনি—জীবনের এক অপরূপ পরিপূর্ণতা যেন একটিমাত্র প্রভাতে ধরা দিয়াছে। আকাশ ময়ূরের পাখার ন্যায় কোমল, গাছের পাতায় রৌদ্রের ঝিলিক লেগে রঙের খেলায় মেতে উঠিয়াছে বনাঞ্চল। অলি পুষ্পে ওড়ে, পাখিরা বৃক্ষশাখায় বসিয়া নদীর জলে আহার খোঁজে, তৃণভূমির টাটকা ঘ্রাণ বাতাসে ছড়াইয়া পড়ে। এই শান্তিময় প্রাকৃতিক দৃশ্যপটে হঠাৎ দৃষ্টিগোচর হয়—নদীতীরে কতকগুলি সিগারেট পড়িয়া রহিয়াছে, মানবপদচিহ্ন শুকনা মৃত্তিকায় স্পষ্টভাবে আঁকা।কে এসিয়াছিল? কেন? প্রকৃতি তাহার নিজস্ব সুরে গীত গাইতে থাকে। তাহার নিরব সঙ্গীতে কোনো বিঘ্ন ঘটে না। নদী, বৃক্ষ, পাখি—সকলই চলিয়া যায় স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু ঠিক সেই সময়… চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রম দৃশ্য। তৃণের উপর এক নির্জীব পক্ষী পড়িয়া আছে। শিশিরসিক্ত ঘাসের ডগাগুলি যেন নিঃশব্দ শোকবার্তা বহন করিতেছিল।তাহার ক্ষুদ্র পদযুগল দুটি পুষ্পের মাঝে লুকানো। কারা যেন তাহাকে অনন্ত নিদ্রায় পাঠাইয়া দিয়াছে। তৃণভূমির উপরে পাখিটি তাহার বক্ষ...

সবাই মুখোশধারী হয় না।

      কবিতা:- সবাই মুখোশধারী হয় না।        কবি:- সোহন ঘোষ।   যদি থাকে পকেটে অনেক টাকা,  বন্ধু সাজে সবাই, করে দেখা।  যার পকেট ফাঁকা,  তার পাশে কেউ থাকবে না তার বিষাদে। টাকা থাকলেই তুমি দুনিয়ার রাজা,  ভালোবাসা পাবে, সম্মান পাবে, পাবে অনেক কিছু।  সবাই হবে তখন তোমার ক্রীতদাস,  টাকা ছাড়া কেউ নয় তোমার আপন। বন্ধুত্ব আজ লেনদেনের খেলা,  যতদিন টাকা, ততদিনই মেলা।  সত্য যদি মুখ খোলে,  কেউ শোনে না কান পেতে,  যদি না থাকে তার পাশে কয়েক গাদা নোট রটে।  আজ কথার নেই কদর, টাকাই রাজা,  শুধু টাকার নামে বাজে বন্দনার সাজা। অভাবীর কান্না কেউ-কি শোনে?  স্বার্থে মিশে গেছে হাসির রঙিন বোনে।  ভালোবাসা আজ বিক্রি টাকায়,  বন্ধুত্ব যেন টাকার হাতেই ধাক্কা খায়।  স্বার্থের মুখোশে হাসে অজস্র লোক,  ব্যথায় কাঁদে না, দেয় ব্যঙ্গের শোক।  স্বার্থ যেখানে, বন্ধুত্ব সেথা— সবাই নয়,  কিছু সম্পর্ক গাঁথা। এসব কথা শুনতে লাগে খারাপ,  তবু এ-ই যে সত্য, মুখে রাখা অপরাধ?  টাকার অহংকারে অনেক...

শ্রদ্ধেয় পিতার ছায়ায় শিক্ষা

        কবিতা:- শ্রদ্ধেয় পিতার ছায়ায় শিক্ষা।           কবি:- শোভন ঘোষ। বাবা, আজ করেছি মনে, একটি পণ গোপনে গোপনে। তোমায় আমি দিব না হানী, শ্রদ্ধা থাকবে চিরকাল জানি। লাঞ্ছনা নয়, অপমান নয়, তোমার নামে কলঙ্ক সয়। নত শিরে তোমার পায়, এমন কিছু করব না হায়। তোমার মুখোমুখি তর্কে, যাব না আমি কোন পর্বে। পিতার বাণী শিরে রাখি, অবাধ্য হব না, এই রাখি। যা বলো তুমি, শুনবো সব, তোমার কথাই আমার রব। উঠিতে বললে উঠবো আমি, বসিতে বললে বসবো ভ্রমি। পিতা, তুমি যাহা বলো, আমার তরে সত্য ছলো। তোমার কথায় আছে আলো, সে আলোয় জ্বলে প্রাণ ভালো। তোমার ছোঁয়াতেই পাই সে আলো, ভগবানের পথ হয় নিরালো। তোমার ছোঁয়ায় পাই যে আশিস, তাতেই মেলে জীবনের বিশ্বাস। যতদিন থাকি এই ভূমে, একটি কথা রাখি মনেমনে— পিতা ধর্ম, পিতা কর্ম, পিতা চিন্তায় জাগে নর্ম। পিতা ছাড়া আমি শূন্য প্রাণ, ছাদহীন এক মরু-বসান। তুমি ছাড়া নাই যে ছায়া, পিতার ভালোবাসা মহামায়া। হে নারায়ণ, করো দয়া, পিতারে রেখো সদা প্রয়া। শত আঘাতে ভাঙে না মন, থাকুক ঘরে ছায়ার ধন। তার ছায়াতল চাই সারাক্ষণ, বঞ্চিত হই না সেই অনুক্ষণ। ...

সোহনের লেখা ও গল্পের নাম সহ প্রকাশনার তারিখ।

  সোহনের  লেখা কবিতা ও গল্পের নাম সহ প্রকাশনার তারিখ।।।।       ⭐⭐ কবিতা ⭐⭐ ১) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি     (14 April 2025) ২) শিক্ষিত প্রতিবাদী এক নারীর প্রশ্ন।    (19 April 2025) ৩) স্বপ্নময় সমাজ।     (19 April 2025) ৪) অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তরপাড়ার দীপ্তি।     (19 April 2025) ৫) প্রিয়তমা ও বঙ্গমাতা       (19 April 2025) ৬) তোমার চেয়েও      (19 April 2025) ৭) পূর্ণগ্রামের সন্তান আমি।      (20 April 2025) ৮) আমার চাই একটু সুখ।      (20 April 2025)  ৯) মানবতা ও প্রতিবাদ।       (21 April 2025)  ১০) প্রকৃতির শিক্ষা।      (26 April 2025) ১১) ছন্দে আগুন।     (26 April 2025) ১২) ছোট্ট কথায় গাছের কান্না।         (27 April 2025)  ১৩) বসন্ত, আমাদের নয়।        (30 April 2025)  ১৪) চোখের জলে শেখা কথা।           (1 May 2025) ১৫) ...

চিনে রাখিস তাকে

       কবিতা:- চিনে রাখিস তাকে          কবি:- সোহন ঘোষ চিনে রাখিস তাকে — যে তোকে আধারে ঠেলে দিয়েছে। চিনে রাখিস তাকে — যে তোকে দুঃখের আগুনে পুড়িয়েছে। চিনে রাখিস তাকে — যে তোর বিপদের সময় ছিল না পাশে। চিনে রাখিস তাকে — যে তোর সাথে বন্ধুত্বের অভিনয় করেছে। চিনে রাখিস তাকে — যে তোকে কষ্ট দিয়ে নিজে শান্তি খুঁজেছে। চিনে রাখিস তাকে — যে তোর অভাবের দিনে দূরে সরে গিয়েছিল। চিনে রাখিস তাকে — যে বিপদের ছায়ায় দাঁড়িয়ে অভিনয় করেছিল সাহায্যের। চিনে রাখিস তাকে — যে শুধু সুযোগ খোঁজে তোর নির্ভরতার আড়ালে। চিনে রাখিস তাকে — যে তোর পেছনে হেসে, তোর সামনে চোখের জল ফেলে। চিনে রাখিস তাকে — যে টাকার লোভে নিজের সম্মান বিকিয়ে দেয়। যে ভান করে ভালোবাসার, অথচ পেছনে খোঁজে ছুরি বসানোর পথ। তবু ঘৃণা করিস না — কারণ এইসবেই তুই আজ শক্ত, তুই আজ জাগ্রত। ক্ষমা কর, ভুলে যাস না — কারণ অভিমান নয়, স্মৃতি তোর শিক্ষার মুখপাঠ। নিজেকে হারাস না ওদের জন্য, কারণ তুই পড়েছিস আমার লেখা কবিতা — ‘চোখের জলের শেখা কথা’। যদি না পড়ে থাকিস, পড়ে নে আজই — কারণ ওটাই তোকে মনে করিয়ে দেবে, কে...

হিংসা নয়,‌ লড়াই কর

      কবিতা:- হিংসা নয়, লড়াই কর।        কবি:- সোহন ঘোষ। ঘরের ভেতর আমি যাই করি, তোদের এত অসহ্য কী? আমার সুখে তোদের কেন জ্বলে ওঠে রাগের আঁচই? পড়ছি বসে, নিঃশব্দে বই, তাতেই তোদের গা-জ্বালা হয়। লিখছি কবিতা, নিভৃতে বসে, তাতে তোদের ক্ষতি কী হয়? হিংসা যদি এতই করিস, নিজের পথে হাঁট্‌রে ভাই। চেষ্টা করে, সাহস ধরলে— একদিন তুইও পারবি ঠিক তাই। আমি কবি সোহন, বলছি তোকে মন দিয়ে শোন— হিংসা করে পাবি না কিছু, জ্বলবি শুধু ভিতরে। তাতে তোর কিছুই হবে না, উন্নতি নয়, শুধু অন্ধকার পড়ে। হিংসা ছেড়ে চিন পৃথিবী, খুঁজে নে নতুন পথ। কাঁধে কাঁধে লড়াই শিখে, তবেই পাবি সুখের স্বরথ। তবেই পাবি নাম আর খ্যাতি, জীবন হবে দীপ্তিময়, অম্লান সাথী।

ফিরি কবিতায় আগ্নেয় কলম হাতে।

     কবিতা:- ফিরি কবিতায় আগ্নেয় কলম হাতে।               কবি:- সোহন ঘোষ। ভেবেছিলাম — আমি লিখবো কবিতা, রাত-দিন-ভোর। করব না কোনো কাজ, করব না চাকরি-ব্যবসা। সারাদিন বসে কবিতা লিখব — এই আমার ইচ্ছা। কিন্তু যেই বসি কবিতা লিখতে — দেখি, নেই কালি কলমে। কলম কিনতে লাগবে টাকা কিংবা পয়সা... কিন্তু পাবো কোথায়? পকেটে যে খালি! তাই শত বিরক্তির সত্ত্বেও, কবিতা ছেড়ে উঠে যেতে হয় কাজ করতে। জীবন তো আর কবিতার মতো সহজ নয়। তা বলে ভেবো না তুমি — সোহন বন্ধ করে দিয়েছে কবিতা লেখা। মাঝে মাঝে সময় পেলে, অগ্নেয় কলম দিয়ে লিখব কবিতা। আবার আসিব ফিরে, নতুন কোনো কবিতা নিয়ে — তোমাদের মন জয় করতে। হয়তো আজ কলম থেমেছে পরিস্থিতির চাপে, কিন্তু কালি পেলে আমার আগ্নেয় কলম লিখবে কবিতা — আগুনের ধাঁচে। পরিস্থিতি যাই আসুক — কবিতা লেখা ছাড়বো না। একদিন সব বাধা পেরিয়ে ফিরবো আমি কলম হাতে। তখন শুধু সোহনের লেখা কবিতা থাকবে তোমার দুই নয়নের সামনে। অপেক্ষা করো একটু সময় — আবার সোহনের কলম আগুন ছুঁবে। তুমি ভাবছো, সোহন হার মেনেছে; পারবে না আর কবিতা লিখতে... তা নিয়ে করছো আমার নামে সমা...

আমি বুঝেছি তোমাকে।

     কবিতা:- আমি বুঝেছি তোমাকে।          কবি:- সোহন ঘোষ। মুচি, বসিয়া রহো নীরব হৃদয়ে, চাহো পায়ের দিকে, নত দৃষ্টি লইয়া। তুমি করো পথ মসৃণ, করো গতি সহজ, তবু সমাজ তোলে না শ্রদ্ধার নত শির। হাসো তুমি—না বলা বেদনা লুকায়, ক্লান্তি ভুলিয়া সেবায় নিজেকে বিলায়। চুপ করিয়া করো কর্ম, না চাহো কিছুই, সম্মান নয়, চাহো শুধু মানবতা বুঝি। আমি জানি, বুঝি তোমার গোপন কষ্ট, বুকের মাঝে জমে থাকা অবহেলার গ্রন্থি। লোকে হাসে তোমার পেশায়, করে তাচ্ছিল্য, অন্ধ হইয়া টাকার মোহে ভুলে যায় হৃদয়। "যাহারা পারে না পরের পেশাকে সম্মান করিতে, তাহারা কেমন করিয়া নিজ পেশা দিবে মর্যাদা?" পেশা লঘু নহে, পেশা হইল আত্মার প্রকাশ, পেশাতেই লুকায় চরিত্রের আসল পরিচয়। তুমি জুতা পালিশ করিয়া দাও দীপ্ত পথ, তবু সমাজে নাহি জাগে তব আশার আলো। তোমার ঘামে গাঁথা যেই মানবসভ্যতা, তাহার পৃষ্ঠে লিখিত  তব অব্যক্ত বেদনার কথা।

শ্রদ্ধা জানাও, হৃদয়ে বসাও

        গল্প:-শ্রদ্ধা জানাও, হৃদয়ে বসাও।           লেখক:- সোহন ঘোষ। আনিস ছোটবেলা হইতেই স্বপ্ন দেখিত—সে বড় হইয়া একদিন খ্যাতনামা গল্পকার হইবে। কবিতা সে বহু লিখিয়াছে, শিক্ষক ও সম্পাদকদের প্রশংসাও লাভ করিয়াছে; কিন্তু গল্পের জগৎ তাহার নিকট ছিল এক রহস্যময়, অচেনা ভূমি। একদিন সাহস সঞ্চয় করিয়া সে তাহার পিতার নিকট গিয়া কাতর কণ্ঠে বলিল, — “বাবা, আমি গল্পকার হইতে চাই।” পিতা মৃদু হাসিয়া বলিলেন, — “সুন্দর কথা। কিন্তু বল তো, কী বিষয় লইয়া লিখিবি?” আনিস কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া মাথা নত করিয়া বলিল, — “সেই সিদ্ধান্ত এখনো লইতে পারি নাই। সম্পাদকমশায় বলিয়াছেন, এখন কেবল কবিতা লিখিলে চলিবে না—গল্পও লিখিতে হইবে। গল্পের নাকি চাহিদা এখন খুব বেশি।” পিতা তখন গম্ভীর হইয়া বলিলেন, — “কেবল বাজারের কথা চিন্তা করিয়া লেখা উচিত নয়। গল্প, কবিতা, নাটক—ইহা সব ভালোবেসে লিখিতে হয়। সাহিত্যকে যাঁহারা হৃদয় দিয়া অনুভব করেন, তাঁহারাই লিখিতে পারেন। গল্প লিখিতে হইলে চাই দৃষ্টিভঙ্গি, চাই অনুভবশক্তি। লেখকের দৃষ্টি ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এক নহে। কলমকে যাঁহারা সত্যিকার ...

ঘোষকুলে বিরাজমান প্রভু শ্রী নারায়ণের আশিষ

কবিতা:- "ঘোষকুলে বিরাজমান প্রভু শ্রী নারায়ণের আশিষ।            কবি:- সোহন ঘোষ। ঘোষকুলে বিরাজমান, প্রভু শ্রীনারায়ণ। পুণ্যভূমি ঘোষপাড়া, পিতৃগৃহে আনন্দ। গোপাল ঘোষ প্রপিতামহ, যাঁহার কীর্তি দীপ্ত, তাঁরই গৃহে বাস মোর, স্মৃতি জাগায় চিত। তুমি রাখ ক্ষয়ভয় হতে, প্রভু নারায়ণ হে, তোমার কৃপা-আলোকে, লিখি আমি যাহে। তোমারি আশীর্বাদে, কবিতা এল বুকে, তোমার প্রেম-অনুরণন বাজে অন্তর সুখে। তব চরণে চাহি বাস, চাহি চিরকাল, হৃদয়ে যে তুমি রয়, নিরব অচঞ্চল। তোমা বিনা জানি না আর, কে মোর আপন জন, বিপদে দাও দিশা হে, তব করুণ মন। আলো দিও অন্ধ রাতে, পথ হারালে প্রাণ, ভালোবাসা তব প্রতি, জীবনসার সম্মান। ঘোষবংশ টিকে আছে, তব শক্তি-ভরে, রেখেছি তাই জীবন মোর, তোমারই করতলে। চালাও তুমি পথ মোর, তব ইচ্ছায় চলে, তুমি দিলে শক্তি হে, বিশ্বও আসে হেলে। ---

চেষ্টা করলেও উপায় নেই

        কবিতা:- চেষ্টা করলেও উপায় নেই        কবি:- সোহন ঘোষ। আমি দেখিনি একবারও তাঁরে, তবু অনুভব করি প্রাণভরে। নিশিদিন চুপে থাকেন যে ঘরে, তিনিই আমার ঠাকুর নারায়ণ। চোখে না এলেও আছেন যে পাশে, স্মৃতির মতোই গেঁথে রয় মনে। ইচ্ছা হয়, একবার শুধু দেখে— ভরিয়ে তুলি মন আর দুই নয়নে। কিন্তু কেন জানি বাঁধা পড়েছি, শিকল যেন টানে ফের ঘরে ঘরে। হৃদয় ছুটে যায় মুক্তির পানে, দেহ পড়ে থাকে সংসারের তরে। দায়িত্ব যদি থাকে কাঁধের ভারে, স্বাধীনতা সরে যায়, সাধনা থেমে থাকে। এই তো সাধনার চিরন্তন ব্যথা— চাওয়া আর না-পাওয়ার মাঝখানে, জেগে থাকে  এক ঈশ্বরের রেখা।

চোখের জলে শেখা কথা।

              কবিতা:- চোখের জলে শেখা কথা।              কবি:- সোহন ঘোষ। কষ্ট যদি না থাকত আগে, আনন্দকে চিনতাম কবে? দুঃখ যদি না আসত সাথে, সুখের স্বাদ জানতাম কবে? খারাপ সময় কেটেছে বলেই ভালোবেসে আঁকড়ে ধরি। ছলনাময় মুখের আড়ালে মানুষ চিনতে শিখেছি। ছদ্মবেশী যারা ছিল পাশে, বন্ধুত্বের ছিল অভিনয়— তাদের দেখে বুঝে গেছি, প্রকৃত বন্ধু কেমন হয়। দুঃখের দিনে, অভাগা আমি ভাগ্যকেই করেছি দোষ। নিজের জীবনকেই বলেছি— 'তুই যে শুধু কষ্টের রোষ।' তবুও আজ, বুঝতে শিখি, জীবন কেবল দেয় না ক্ষত— তাদের মাঝেই লুকিয়ে থাকে শেখার মতো অমূল্য রত্ন। আজ তাই আমি ভাবি চুপে— ভাগ্যবান আমি যে বটে! জীবনের পাঠ পেয়েছি আমি চোখের জলে, ব্যথার রটে। বাঁধা পেয়ে মানুষ কেন পেছিয়ে আসে? সত্যকে করে না কেন উপলব্ধি? সে যে কঠোর, কিন্তু স্বপ্নের মতো ছলনা করে না, আনে না বিভ্রান্তি।