পোস্টগুলি

জুন, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

তাদের মন জয় করার চেষ্টা করি।

  ‌ কবিতা:- তাদের মন জয় করার চেষ্টা করি।            কবি:- সোহন ঘোষ। হঠাৎ দেখি চাঁদ উঠেছে কালিঘরের মাথায়, মনটা যেন নেচে উঠল চুপিসারে — হায়! ভাবনাতে গান এলো তাই, গেলাম ছাদে চুপে, নিভৃত প্রান্তর — আপন মনে গানের খাতা খুলে। লিখে ফেললাম আস্ত একটা প্রকৃতিরই গান, মনটা ভরে উঠল ভালোবাসার টানে প্রাণ। নিচে নেমে আসছি যখন, পুকুরজল হঠাৎ বলে ওঠে — “আজকের রাতটা ভরাও তোমার গান দিয়ে!” এমন সময় প্যাঁচার ঝাঁক ছুটে এসে বলে — “তোমার গান শুনবো আমরা গাছের ডালে বসে!” কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলি — “শোনাতে তো চাই, তবলা-গিটার কিছুই তো নাই — বলো, কী করে শুনাই?” তখন হাওয়া, গাছপালা আর পোকা-মাকড় দল বলল — “আমরাই দেবো সুর — চল!” ছুটে এলো জোনাকিরা, বলল — “আলো দেবো, তোমার গানের মঞ্চ সাজিয়ে, রূপে রাঙিয়ে দেবো!” ফুলেরা সব হাসতে হাসতে বলে — “আমরা আছি, রঙিন সাজে সাজিয়ে দেবো মঞ্চটিকে।” কোথা থেকে জানো, হঠাৎ হাজির হল গিরগিটি আর ব্যাঙের দল। বলল তারা হেঁকে — “আমরা আজকে সবাই রাত জাগবো একসাথে!” পিছু থেকে কে যেন বলল — “আজকে ভরিয়ে তলো রাত তোমার গান দিয়ে।” কি আর করি! খুলি খাতা, গাইতে শুরু করি, গানে ...

ছড়া:-গল্প বলা কি এতই সোজা?

       ছড়া:- গল্প বলা কি এতই সোজা?        লেখক:- সোহন ঘোষ।   নাম তার রাণী, শোনাই লোকেদের বাণী। (— গাঁয়ের রানী জন্ম বোবা? কি করে শুনাবে বাণী বল তা!) সে তো নয় এ গাঁয়ের, সে তো দূরের এক ভিন গাঁয়ের। বাস করে সে একা একা (— কোথায় ছিল তার মা-বাবা?) বাবা-মা গেছেন স্বর্গে। (— ও! তা গেল কী করে স্বর্গে?) তোর কাঁধে চেপে! এত বিরক্ত করলে কি গল্প হবে? গল্প বলা কি এতই সোজা? আমায় বিরক্ত না করে — চুপচাপ এখন পালিয়ে যা!

ছড়া:- হতাম যদি।

          ছড়া:- হতাম যদি।           লেখক:- সোহন ঘোষ।    হতাম যদি ফুল,      রঙে-গন্ধে ভরতাম ভুল, স্নিগ্ধ হেসে দিতাম সারা,        সবার মুখে আনতাম হাসির ছটা। হতাম যদি রাজা,       দোষীদের দিতাম সাজা, সকল জ্বালা করতাম হরণ,       আনতাম শান্তি সবার জীবন। হতাম যদি বৃক্ষ,  ক্লান্ত            মানুষকে ছায়া দিয়ে করতাম শান্ত। হতাম যদি আলো,          নিজের দীপ্তি দিয়ে করতাম অন্ধকারকে আলো। হতাম যদি পাখি,        ডানা মিলে দিতাম বিশ্ব পাড়ি। জ্ঞান কুড়িয়ে ফিরতাম দেশে,        বইয়ে দিতাম আলোর ধারা সবার ঘরে ঘরে।

ছড়া:- মায়ের চোখে খোকার বিয়ে।

         ছড়া:- মায়ের চোখে খোকার বিয়ে।           লেখক:- সোহন ঘোষ। চাঁদ উঠেছে,     ফুল ফুটেছে।   আমার খোকা যাবে বিয়ে করতে,     ঘোড়ার পিঠে চেপে।   গলায় তার —     রজনীগন্ধার মালা।   ধুতি-পাঞ্জাবি পড়েছে খোকা,     পায়ে জুতো জোড়া । পাড়া-প্রতিবেশী কোমর বেঁধেছে,     যাবে খোকার সাথে।   খোকার হবে বিয়ে আজ     খুকুমণির দেশে। আমার খোকা আনবে কাল     লাজুক মুখে বউ,   দরজার সামনে বরণ করে    তুলব ঘরে খোকার বউ।

ছড়া:- কাল যাবো মামার বাড়ি।

           ছড়া:- কাল যাবো মামারবাড়ি।           লেখক:- সোহন ঘোষ। কাল যাবো মামার বাড়ি,  সঙ্গে নিয়ে যাবো মিষ্টির হাঁড়ি। মামার বাড়ি খুবই মজা,  দই–মিষ্টি খেতে কেউ করবে না মানা। মামার বাড়িতে আছে আমার মামা,  বলবো — “কিনে দাও আমায় একটা নতুন খেলনা!”

ছড়া:- চললো খোকা

             ছড়া:- চললো খোকা।            লেখক:- সোহন ঘোষ। খোকা যাবে মামার বাড়ি,           হাতে নিয়ে মিষ্টির হাঁড়ি। মুখে তার মিষ্টি হাসি —           চললো খোকা মামার বাড়ি! মামার বাড়ি যাবে খোকা,          সঙ্গে যাবে কুকুর ছানা। পথ দেখাবে পোষা ময়না,          মামাবাড়িতে প্রচুর মজা।

ছড়া:- ওরে খোকন

         ছড়া:- ওরে খোকন।           লেখক:- সোহন ঘোষ। ওরে খোকন, বাড়ি আয়।                 ভাত খেয়ে শুবি আয়। বিকেলে যাব মামার বাড়ি,                সঙ্গে নিয়ে যাব মিষ্টির হাঁড়ি। “শিশুমনস্ক ভালোবাসা থেকে সৃষ্ট একটি মৌলিক ছড়া” অথবা “লোকজ ধাঁচে লেখা আমার লেখা ছড়া”

ছড়া:- খোকার বায়না।

      ছড়া:- খোকার বায়না।      লেখক:- সোহন ঘোষ। আয় চাঁদ,     আয় না, পূরণ কর   আমার খোকার বায়না। একটা পুতুল,   একটা টিপ। আর আমার   খোকা কিছু চায় না। চাঁদ মামা,   চাঁদ মামা, পূরণ করো যদি   আমার খোকার বায়না। তবে আমার খোকার,   যখন দেব বিয়ে, নেমন্তন্ন করব তোমাকে   পান-সুপারি দিয়ে। 

মনোহর গ্ৰাম।

       কবিতা:- মনোহর গ্ৰাম।          কবি:- সোহন ঘোষ। আমাদের গ্রাম ভারী সুন্দর। না দেখলে বুঝবে না কভু — এ গাঁ কত মনোহর! মাঠে মাঠে চড়ে গোরু, রাখাল যায় চরাতে। চাষী যায় মাঠে করিতে চাষ, আনন্দে মেতে। সোনার ফসল ফলে, খেত ভরা ধান। চাষী ভাই আনন্দে গেয়ে ওঠে গান। হেথা নেই কোনো হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ, বন্ধু সবাই সবার হয়ে আছে বেশ। রোদের আলোয় ঝিকিমিকি করে পুকুরের জল। ফুলে ফুলে অলি ওড়ে, খেলে মধুর ছল। বৃক্ষে বসে পক্ষী গায় আপন সুরে গান, এই সব কিছুই যে বি ধাতার মহান দান। ⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐ শিরোনাম: মনোহর গ্ৰাম। লেখক: [সোহন ঘোষ] ধরণ: ছড়ার ছাঁদে লেখা বর্ণনামূলক কবিতা বিষয়: গ্রামবাংলার সৌন্দর্য, ঐক্য ও প্রকৃতি। ⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐

দাঁড়াও—এগিয়ে যেও না।

 কবিতা:- দাঁড়াও—এগিয়ে যেও না।   কবি:- সোহন ঘোষ। দাঁড়াও—এগিয়ে যেও না। এগোনোর আগে ভাবতে হবে হাজারবার। এই সময়টা ভালো নয়— চারদিকেই যেন ওঁত পেতে আছে অজানা বিপদ। যেকোনো দিক থেকেই ছুটে আসতে পারে বন্দুকের গুলি। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হোক চিন্তাভাবনার ফল। কথায় আছে— "ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।" তাই আমাদের এখন দরকার একসাথে থাকা— হাত ধরাধরি করে, চোখে চোখ রেখে এগিয়ে যাওয়া। সামনেই দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুধার্ত নেকড়ে, আকাশে চক্কর কাটছে রক্তপিপাসু শকুন। তবুও, যদি আমরা এক থাকি— তাহলে জয় শুধু  সময়ের অপেক্ষা।

অপারেশন সিঁদুর।

         কবিতা:- অপারেশন সিঁদুর।           কবি:- সোহন ঘোষ।  দূরভাষ গ্রহণ করিয়া, সৈনিক প্রণাম জানাইলো। “কি হেতু, স্যার, দূরভাষ করিলে মোরে? কহ মোরে ভারতের সংবাদ।” স্যার উত্তরিলা: “হায় পুত্র! কি আর কহিব তোমারে কনক-ভারতের দশা! কাশ্মীর রক্তাক্ত, নিঃস্ব ভারতমা আজ ক্রন্দনরত। জঙ্গি করিছে পর্যটক নিধন, সন্ত্রাসে ধ্বস্ত জনপদ। এই হেতু সেনাবাহিনী চলিবে উত্তরদানে।” বারতা শুনিয়া ক্রুদ্ধ হল বীর, মনে মনে বলিল: “শীঘ্রই আমি যাম যুদ্ধস্থলে, বিনাশ করিতে ওই অধর্মের দল।” বীর সৈনিকের মত সাজে, তরুণ তেজে ভরে, যানচালকে চড়ে, বীরদর্পে সে চলে। হেন কালে বীরবধূ ধরি করযুগল, যেমন লতা জড়ায় তরুশিরা, প্রেমে-ভয়ে মলিন। কাঁদিয়া কহে বধূ: “কি করে ধরিব প্রাণ তোমারে বিরহে এ ধরায়? তুমি আছো বলেই জগৎ আমার — তব বিনে কাটে না মুহূর্ত। কোথায় যাও তুমি, এ অভাগিনীকে রাখি?” হাসিয়া উত্তরিলা বীর সৈনিক: “বাঁধিয়াছ তুমি আমায় এমন এক বাঁধনে, যাহা ভাঙে না যুদ্ধের খড়্গেও। ত্বরাই ফিরিব আমি, কল্যাণী — সমরে করিব জয়, তোমার কল্যাণে জঙ্গিদের বিনাশ করিয়া। মন চায় না যেতে, কিন্তু কী...

সমাজ গড়ে নিঃশব্দে

       কবিতা:- সমাজ গড়ে নিঃশব্দে।          কবি:- সোহন ঘোষ। ময়লা মাখা ছেঁড়া জামা থাকে তাদের গায়ে। ইচ্ছে করলেও পড়তে পারে না— পকেটে অর্থ নাই। সকাল হলে মাঠে যায় কোদাল হাতে করে, সূর্য ওঠে, ঘাম ঝরে— শ্রমেই তাদের পেট চলে। তারা তো অল্পেই খুশি, তাই তো পায় না দুঃখ; নিজের ক্ষমতা দিয়ে কাজ করে খায়— ভিক্ষার পথ তাদের কাছে মন্দ। তাদের দিন চলে যায় নুন আর পান্তা ভাতে। তাদের কথা কেই বা ভাবে? ঘামে ভেজা শরীর তাদের— দামি নয় কারো চোখে। তবু তারা গড়ে তোলে নিঃশব্দে এই সমাজকে— ইটের নিচে চাপা পড়ে থাকা নামহীন ইতিহাসে।