পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বসন্ত,আমাদের নয়।

          কবিতা:- বসন্ত, আমাদের নয়।             কবি:- সোহন ঘোষ। আমরা দুটি ভাই রে ভাই, সকাল বেলা কাজে যাই। চাহিদা কিছুই নাই রে ভাই, স্বপ্ন কেবল বুকের ঠাঁই। পড়তে ইচ্ছে করে যে ভাই, কিন্তু ওটা স্বপ্নই শুধু। পড়াশোনা বিলাসিতা, আমাদের সে ভাগ্য কই? দিন আনি আর দিন খাই, অসুখেও কাজে যাই। সব দিন হয় না বাজার, রাত কাটে না খেয়ে, ভাই। বসন্ত আসে, কোকিল গায়, মন চায় শুধু শুনে যাই। কিন্তু বসে থাকলে, ভাই, ভাতের জোগাড় কে করবে তাই? প্রকৃতির রূপ, মেঘের ছায়া— আমাদের নয় সৌভাগ্য মায়া। আকাশে সাদা মেঘ দেখলে ভাই, সাদা ভাতের স্বপ্ন জাগে তাই। পশ্চিম দিগন্তে সূর্য রে ভাই, লাল আলুর ভাত চোখে ভাসায়। তাই বলি ভাই, স্বপ্ন থাকুক, হাসিমুখে কাটুক বাকি সময়। জীবন কঠিন, জীবন ধূসর, তবু ভালো থাকি, দু’জন একসয়।

ছোট্র কথায় গাছের কান্না।

        কবিতা:- ছোট্র কথায় গাছের কান্না।                     কবি:- সোহন ঘোষ।                         (দু'জন ছোট্রো ছেলের সংলাপের ভঙ্গিতে) — ভাই, আজ স্কুলে স্যার বললেন, গাছ লাগাতে হবে। — হ্যাঁ রে, গাছ তো আমাদের সবার বন্ধু। —এ কি? - কি হলো ভাই? - ওখানে, ওই বিশাল পুরনো বটগাছটা কেটে  ফেলচ্ছে কেন? — শুনেছি, ওখানে একটা কারখানা হবে। — তাই বলে এত পুরনো গাছটাকে  কেটে ফেলেবে! — শুধু ওই গাছটি নয়। ওখানে যত গাছ আছে, সব কেটে ফেলা হবে। —ওই জন্যই, বড় মাটিকাটা গাড়ি এসেছে, যেটা দিয়ে গাছগুলো শেকড়সহ তুলে ফেলবে। — ভাগ্যিস গাছের মন নেই ভাই, নইলে মানুষের এরাকম ব্যবহার দেখে কেঁদে ফেলতো। — গাছ তো আমাদের এত উপকার করে, ছায়া দেয়, বাতাস দেয়, ফল দেয়, তবুও মানুষ ওদের এভাবে কেটে‌ দেয়। — মানুষ নিজেদের সুবিধার জন্য সব করতে পারে প্রচুর দেখ। — অথচ দেখ, গাছও পাখির উপকার করে আবার পাখিরাও গাছের উপকার করে। - হ্যাঁ, ভাই বইতে পড়েছি পাখিরা ঠোঁটে করে ফলের বীজ নিয়ে ছড়িয...

ছন্দে আগুন

                কবিতা:- ছন্দে আগুন                  কবি:- সোহন ঘোষ  কি ভেবেছিস রে ওরে? আমায় করবি ক্ষতি? শুনে রাখ — পারবি না, ভুলে যাস অন্ধ মতি। চেষ্টা করিস কত রে, তবুও তো পারিস না, আমার ছায়া ছুঁতেও, পোড়াস বৃথা শ্বাসে তা। গর্ত খুঁড়িস পথেতে, আমার জন্য মনে, নারায়ণ তোরা দেখে, খুঁড়ে কুয়ো আপন জনে। হিংসে করিস মনে তুই, জ্বলিস রে অন্তরে, আমি চাই তুই পুড়িস, আপন হিংসা-জ্বরে। আমায় হারাতে চাস রে? চেষ্টা করিস বটে, পারবি না — আমি নই, হার মানা সে রথে। আমি হারতে শিখিনি, পিছন ফেরার ভয় নেই, নতুন ছন্দে ফিরি আমি, নতুন আগুন বয়ে বই। কলম ধরে লিখি আজ, জ্বলন্ত প্রতিজ্ঞায়, শিখাই তোকে মানবতা, আগুনের ঐ ছোঁয়ায়। হিংসায় কেউ জেতে না, পায় না শান্তি কভু, অন্যে ক্ষতিতে কভু, ফোটে না সুখের ধ্বু। আমায় যতবার ফেলবি মাটিতে হারানোর চেষ্টায় , ফিরবো আমি বারবার, নতুন ছন্দের মহিমায়।

প্রকৃতির শিক্ষা

          কবিতা:-প্রকৃতির শিক্ষা           কবি:- সোহন ঘোষ ফুল তুমি কেমন করে মন জয় করো সবার? আমায় শেখাও তুমি, হতে চাই মনোভার। উদ্ভিদ, বলো তো তুমি হও কী করে বন্ধু সবার? আমায় শেখাও তুমি, হতে চাই বন্ধু সবার। চাঁদের আলো হাসে দুঃখ-ক্লান্ত প্রাণ চাঁদ মামা, শেখাও আমায় কি করে হয় দান। তোমরা যদি শেখাও আমাকে, আমিও শেখাব এই জগৎকে  আমার কবিতার মধ্যে। শিখি যদি প্রকৃতি থেকে, মানুষ হবো সত্য— সোহনের কবিতায় তখন ফুটবে আলোর মত্ত্য।

মানবতা ও প্রতিবাদ

          কবিতা :- মানবতা ও প্রতিবাদ।          কবি:- সোহন ঘোষ।       আনিস নাম তার। জন্ম তার গ্রামে। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ চলে সব সময় তার মনের মধ্যে। তার পাড়ায় এক লোক বাস করে মহানন্দে, বাবা-মাকে সে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে। এই দেখে জাগে প্রশ্ন আনিসের মনে— যে জন্ম দিয়েছে, তাকে রেখে উদোর-গহরে, সেই মাকে সেই লোক রাখে না কেন ঘরে? যে‌ বাবা মানুষ করেছে তাহারে, সেই বাবাকে বাড়িতে রাখতে তার কি এমন প্রাণে ধরে? ভাবনা করছে যখন, এমন সময় তার মনের মধ্যে গুনগুনিয়ে ওঠে “মায়ের মুখে শোনা নচিকেতার সেই গান— ‘বৃদ্ধাশ্রম...’”

আমার চাই একটু সুখ।

          কবিতা:-আমার চাই শুধু একটু সুখ।            কবি:- সোহন ঘোষ আমি এক হতভাগা নারী! আমার নেই ক্ষমতা, নেই কিছু। আমি এই শতকের এক হতভাগা নারী। সবলে নেই শক্তি, যা দিয়ে করিব অন্যায়ের বিচার। আমি হলাম এই বাংলার হতভাগা নারী। পুরুষের পায়ের নিচে পড়ে থাকি এই সংসারে কারণ আমি যে এই বাংলার হতভাগা নারী। আমি তো চাইনি বেশি কিছু— তাই আমার নেই কষ্ট নেই তো দুঃখ? দুঃখ করি তো কার তাতে কি ?  আমরা তো সামান্য নারী! আমরা কি বা করতে পারি?  প্রতিবাদ করলে নারী হয় খারাপ। তাহলে, নারীই কি করে সব দোষ? আমি যে এই বাংলা এক হতভাগা নারী। আমাদের দিন চলে যায়, সামান্য নুন আর পান্তা ভাতে। আমি যে এই বাংলার এক হতভাগা নারী। চলে যায় জীবন আমাদের, পুরুষের অত্যাচার সহ্য করিতে। সুখ ছাড়া তো কিছু চাইনি এই জীবনে— কপালে যদি থাকে সামান্য সুখ, হেসে খেলে, কষ্ট করেই চালিয়ে নেবো এই যুগ।   আছে নাকি কেউ এই বাংলায় যে ফিরিয়ে দেবে আমার সুখ?

পূর্ণগ্রামের সন্তান আমি।

            কবিতা:-পূর্ণগ্রামের সন্তান আমি।               কবি:- সোহন ঘোষ।        ঘোষকুলে জন্মি কবি শ্রী সোহন!  পুণ্য ভূমি পুণ্যগ্রামে ঘোষপাড়ায় স্থান। জন্মদাতা আশিষ, মহাপুরুষ তনয়, জননী নিবেদিতা-গৃহলক্ষী জ্ঞান।

তোমার চেয়েও

        কবিতা:- তোমার চেয়েও।         কবি:- সোহন ঘোষ। কাজ করতে গিয়ে মন চলে যায় তোমার দিকে বেঁকে। ভালোবেসে ফেলেছি যে— তোমার ছবি মনে এঁকে। ছেড়ে যদি চলে যাও বহুদূরে, তোমার স্বপ্ন দেখবো আমি প্রতিদিন— রাত, দিন, ভোরে। কি হলো? ভালোবাসবে না আমায় চিরকাল, নিজের আপন করে নিয়ে? চায় না মন আমার— তোমায় ছেড়ে বহু দূরে যেতে। কিন্তু কি করবো বলো? তোমার থেকেও বেশি ভালোবেসে ফেলেছি আমার জন্মভূমিকে। তাই তো আমি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি তার রক্ষার ভার। তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করাই হলো আমার প্রধান কাজ। যদি সবাই চলে যায়— নিজের স্বার্থ করিতে পূরণ, একা আমি থাকব— জন্মভূমির করিতে স্বার্থ পূরণ। আমার মা… আমার মা… তোমায় ছাড়া, আমি আর কাউকে ভালোবাসি না।

প্রিয়তমা ও বঙ্গমাতা

    কবিতা :-       প্রিয়তমা ও বঙ্গমাতা     কবি :-          সোহন ঘোষ চাইছে আমার মন-প্রাণ— তোমার পাশে বসে, তোমায় শুনাতে আমার লেখা কবিতা আর গান। কিন্তু... বঙ্গমাতা দায়িত্ব যে আমার কাঁধে, কি করে শোনাবো তোমায় কবিতা আর গান? ইচ্ছা করে— গাড়ি করে তোমায় নিয়ে যাব দূরে। কিন্তু... বঙ্গমাতার দায়িত্ব যে আমার কাঁধে, কি করে নিয়ে যাব তোমায় ঘুরতে? রাগ করোনা, প্রিয়তমা— রাগ করোনা তুমি! তোমাকে যে আমি বড্ড ভালোবাসি। বঙ্গমাতা যদি থাকে বিপদে, আমি কি করে থাকবো বলো  আরামে? যদি সবাই চলে যায় নিজের স্বার্থ করিতে পূরণ, একা আমি থাকবো এখানে— বঙ্গভূমির করিতে স্বার্থ পূরণ।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তরপাড়া দীপ্তি।

  কবিতা:- অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তরপাড়া দীপ্তি।                  কবি:- সোহন ঘোষ।                  গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত কাটিয়ে এলো আমার প্রিয় বসন্ত। বসন্তকালে, ফাল্গুন মাসে—পূজিত হন কালী মা। ফাগুন মাস পড়লেই সবাই চোখ রাখে উওরপাড়ায় , কবে বাজবে ঢাক, কবে জ্বলবে আলো!। মেলা বসে, দোকান জাগে, চারদিকে আনন্দ ঢেউ তোলে কাঁপে। আসে কুটুম, রঙিন খুশি, এক দিনের উৎসবে শহর হাসে। ফুলে সেজে ওঠে কালীঘর, আলোয় আলোকিত মা’র আসর।  সাজে উওরপাড়া, সাজে এই গ্ৰাম। মাইক বাজে, বাজে ঢাক, বাজে নানা সুর। মানুষ আসে, শুধু আসে, দেখতে মায়ের এই রূপ। আমি যাই থালা হাতে, ভক্তি নিয়ে মায়ের দুয়ারে। তখন দেখি— এরা কে? আমাদের মতো গরিব দেহে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়! কিল-ঘুষিতে লজ্জা দেয়, কেন শুধু গরিবই সব সহ্য করতে হয়? অন্যায় না করেও সাজা পাই, বড়লোক কবে শাস্তি খায়? আমি একদিন গিয়েছিলাম প্রতিবাদ করতে— অন্যায়ের বিরুদ্ধে গলা তুলতে। কিন্তু ক্ষমতার দর্পে ঠেলে ফেলে দিল, মাটিতে নামিয়ে দিল আমায়। এই উওরপাড়াকে ভালোবাসি ...

কবিতা:-স্বপ্নময় সমাজ

              স্বপ্নময় সমাজ              সোহন ঘোষ আমাদের দেশে কবে আসবে সে আসার সমাজ, যেখানে মানুষ মানুষকে দেবে হৃদয়ের সাজ? বিপদকালে থাকবে না কেউ একা, সহমর্মিতায় গড়া হবে নতুন এক রেখা। ভয় নয়, মায়াই হবে মানুষের মূল, মন হবে স্বচ্ছ—থাকবে না কোনো ভুল। না থাকবে হিংসা, না কোনো ঝগড়া, বদলার পরিবর্তে আসবে ভালোবাসার ধারা। দোষ করলে শাস্তি নয়—আগে আসবে শিক্ষা, ভালোবাসার পাঠই হবে মানবতার দীক্ষা। কথা নয়, মানুষকে চিনবে তার কাজে, পরিচয় মিলবে কর্মেরই সাজে। অন্যায় দেখলে নয় তরোয়ালের ধার— কলমই তুলবে প্রতিবাদের ঝড়। সেই সমাজে সব কাজই পাবে সমান মান, ছোট-বড় ভেদ ভুলে দেবে হৃদয় দান। যোগ্য হলে কেউ পাবে না সমালোচনার ভাষা— প্রশংসাই হবে নিয়ম, ভালোবাসাই ভরসা। মনুষ্যত্বের গড়া সেই সমাজ হবে এই আমার আশা। নারী-নর পাবে সমান অধিকার, সমাজে থাকবে না কেউ নিচু বা উঁচু। থাকবে না কষ্ট, দুঃখ কিংবা ভেদ— ভালোবাসায় গড়া হবে নতুন এই দেশ। বল তো বুকের ওপর হাত রেখে—তুমি কি চাও না এমন সমাজ? তাহলে এসো, হাতে হাত রেখে করি এই সমাজের জন্য কাজ।

কবিতা- শিক্ষিত প্রতিবাদী এক নারীর প্রশ্ন।

  কবিতা: শিক্ষিত প্রতিবাদী এক নারীর প্রশ্ন       কবি: সোহন ঘোষ এই পৃথিবীতে কে এনেছিল তোকে? ইতিহাসের পাতায় শুধু পুরুষের নাম। আচ্ছা, পুরুষরা কি তোকে গর্ভে ধারণ করেছিল? জন্মের পর, এক-দু বছর, খিদে পেলে শিশুদের কে দিত দুগ্ধ পান? এত যে বলি—পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, সে সমাজ বানালো কে? একলা পুরুষ, নাকি… দুজনেই? এত শুনি শুধু পূর্বপুরুষের নাম— তাদের প্রত্যেকেরই তো একটা স্ত্রী ছিল, তাই না? বাবার ঘরের লক্ষী হয়ে জন্মেছে যে নারী, তার উপর অত্যাচার করে ভাবছো— তুমি কি করে দেবে স্বর্গ পারি? বঙ্গমাতা, সেও নারী... নারী দুর্গা মা। নারী হলো এই সমাজের জন্মদাত্রী মা। এত যে শুনি “বেশ্যা নারী”, তাকে বেশ্যা বানালো কে? নারী বেশ্যা, নারী কলঙ্ক, নারী হলো অসৎ! তাদের এইসব উপাধি দিল কে? তাহলে প্রশ্নটা ঘুরে আসে— অসততা কি শুধু নারীর নাম?

সুপ্ত আগ্নেয়গিরি

 কবিতা: সুপ্ত আগ্নেয়গিরি কবি: সোহন ঘোষ রোদন মায়ের পাশে এখন যদি না-ই থাকি পাশে, কেন তবে শিক্ষা, কেনই বা গান? এই মানবজীবনের অর্থ কোথায়- যদি না জাগে প্রতিবাদের প্রাণ। ধর্ষিতা কন্যার নিথর দেহ দেখে নাই যদি জাগে রুদ্র ক্রোধ, তবে কেন ভালোবাসা, কেন সমাজ? কিসের আবার মূল্যবোধ? যাদের বলি সমাজে মেরুদন্ড, তারাই পুলিশের হাতে নির্যাতিত। নিরাপরাধ শিক্ষকরা, এইভাবে যদি হন নিপীড়িত- তবে কি তাকাবো আকাশের পানে, বিধির বিচার চেয়ে? আমি তা পারি না। যা পারি, তা শুধু কবিতায় জাগে- আমার বিবেক, এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, যা বিস্ফোরণের ঠিক আগে।