অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তরপাড়া দীপ্তি।
কবিতা:- অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তরপাড়া দীপ্তি।
কবি:- সোহন ঘোষ।
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত,
শীত কাটিয়ে এলো আমার প্রিয় বসন্ত।
বসন্তকালে, ফাল্গুন মাসে—পূজিত হন কালী মা।
ফাগুন মাস পড়লেই সবাই চোখ রাখে উওরপাড়ায় ,
কবে বাজবে ঢাক, কবে জ্বলবে আলো!।
মেলা বসে, দোকান জাগে,
চারদিকে আনন্দ ঢেউ তোলে কাঁপে।
আসে কুটুম, রঙিন খুশি,
এক দিনের উৎসবে শহর হাসে।
ফুলে সেজে ওঠে কালীঘর,
আলোয় আলোকিত মা’র আসর।
সাজে উওরপাড়া, সাজে এই গ্ৰাম।
মাইক বাজে, বাজে ঢাক, বাজে নানা সুর।
মানুষ আসে, শুধু আসে, দেখতে মায়ের এই রূপ।
আমি যাই থালা হাতে,
ভক্তি নিয়ে মায়ের দুয়ারে।
তখন দেখি— এরা কে?
আমাদের মতো গরিব দেহে
ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়!
কিল-ঘুষিতে লজ্জা দেয়,
কেন শুধু গরিবই সব সহ্য করতে হয়?
অন্যায় না করেও সাজা পাই,
বড়লোক কবে শাস্তি খায়?
আমি একদিন গিয়েছিলাম প্রতিবাদ করতে—
অন্যায়ের বিরুদ্ধে গলা তুলতে।
কিন্তু ক্ষমতার দর্পে ঠেলে ফেলে দিল,
মাটিতে নামিয়ে দিল আমায়।
এই উওরপাড়াকে ভালোবাসি আমি,
কারণ,উওরপাড়াতেই তো আমার জন্ম।
তা বলে অন্যায় দেখেও
আমি কী মুখ বুঝে থাকবো?
আমি তা পারি না।
যা পারি,
তা শুধু কবিতায় জাগে।
আমার বিবেক, এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
যা, বিস্ফোরণের আগে।
একদিন আসবে মহাকাল,
ভাঙবে তোদের অহংকার।
ভয়ঙ্কর তার রূপ—
হাতে মশাল, গলায় সাপ,
চুলে জটায়ু, পেছনে নন্দী আসছে ছুটে।
ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না!
এই যে—মহাকাল।
ভয় না পেয়ে, বাড়ির মেয়ে-বউয়েরা,
প্রদীপ তুলে ধর।
মহাকাল ধ্বংস করবে—
আমাদের এই অধিকার।
ধ্বংসের খেলা শেষ হলে, আসবে নারায়ণ হেসে,
তার পিছনে থাকবে পঞ্চমুখী সাপ—
ভয় কোরো না, সে যে নারায়ণের সাপ।
ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক,
নারায়ণের গায়ে কিছুই লাগে না।
নারায়ণের হাতে থাকবে চক্র,
তার পিছু পিছু আসবে মা লক্ষ্মী।
ধন্য ধান্যে ভরিয়ে দিতে এ ঘোষপাড়া।
আমি দাঁড়িয়ে থাকবো—তোমাদের করিতে বরণ,
নিয়ে যাবো—আমার বাড়িতে।
আমার বাড়িতে থাকবে তোমরা,
আমায় দেবে শিক্ষা—
আদর্শ সমাজ গড়ার দীক্ষা।
করব আমি নতুন করে গড়ে তুলবো—
আমার জন্মভূমিকে।
যেখানে থাকবে না ভেদাভেদ—
গরিব-বড়লোক, কারোরে।
উঠবে আবার নতুন সূর্য,
আবার হবে মায়ের পূজো।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন