পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

এ আমার অঙ্গীকার।

        কবিতা:- এ আমার অঙ্গীকার।         লেখক:- সোহন ঘোষ। ছেড়ে চলে যেতে হবে,  এই বিশ্ব-মাঝার। সময় আসবে একদিন—  তোমার, আমার, সবার। একদিন আমাকেও যেতে হবে,  এই প্রিয় পৃথিবী ছেড়ে; তবুও, যতদিন আছি  এই ধরণীর কোলে বেঁচে— সুন্দরভাবে গড়ে তুলবো এই ভূমিকে,  ভালোবাসার ছোঁয়ায়, নিজ কর্মের মাধ্যমে নেবো গড়ে  নতুন এক পরিচয়। চলে যাবো নিশ্চয়ই, একদিন পৃথিবী ছেড়ে; তবু, তোমরা কেঁদো না আমারই জন্যে। আবার আসবো ফিরে,  এই বাংলারই কোনো ঘরে। জন্ম নেবো কোনো মায়ের কোলে,  জন্ম নেবো নতুন এক রূপে, স্নেহ-মায়া ভরা এই বাংলার বুকে। হয়তো মনুষ্যশিশুর চোখে  দেখব এই বাংলার দৃশ্য; হয়তো বা জন্ম নেব, পাখি হয়ে  এই বাংলার কোনো স্থানে। ভরিয়ে তুলবো সকাল, গানে গানে। হয়তো বা জন্ম নেব, প্রজাপতির বেশে,  এই বাংলাকে ভালোবেসে। আবার আসবো ফিরে,  বাংলারই কোনো ঘরে।

ছড়া:- গজা রাজ্যের রাজা।

          ছড়া:- গজা রাজ্যের গজা।            লেখক:- সোহন ঘোষ। এক যে ছিল রাজা,              তার নাম ভজা। তার রাজ্যের নাম গজা।            খেত সে আলুভাজা। শোনো যদি,         রাজ্যের কথা, পাবে তুমি,         ভীষণ মজা। সেখানকার নিয়ম,          সব উল্টা। হাসতে হবে সর্বদা, বলেছেন রাজা, না হলে পাবে ভীষণ সাজা‌। এমনকি কান্না পেলেও হাসতে হবে, নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তি হবে। রাতের বেলায় জাগতে হবে, দিনের বেলায় ঘুমোতে হবে। আরো কত নিয়ম আছে, শুনলে প্রচুর মজা পাবে। বলব একদিন সময় করে। আমাকে যেতে হবে এখন কলকাতা। ফিরে এসে বলবো বাকি গল্পটা।

ছড়া:- নিমন্ত্রণ।

       ছড়া:- নিমন্ত্রণ।        লেখক:- সোহন ঘোষ। টিয়া পাখি, টিয়া পাখি, যাচ্ছো কোথায় — জানতে পারি? এসো এসো আমার কাছে, গল্প করব একসাথে বসে। তোমার পেয়েছে কি খিদে? তাহলে এসো আমার বাড়িতে। যদি খেতে চাও পেটপুরে, এসে বসো চুপটি করে। খাবার আনছি রাশি রাশি, রেঁধেছে আমার মা-মাসি। শেষে আছে দই-মিষ্টি-গজা — কিনে এনেছে চাকর ভজা। খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে, গল্প করব দুজনে মিলে।

তোমাকে ভালোবাসি বলেই।

কবিতা:- তোমাকে ভালোবাসি বলেই।       লেখক:- সোহন ঘোষ। তোমাকে পাওয়ার জন্য —  যদি পাড়ি দিতে হয় সাত সমুদ্র,  যদি উঠতে হয় এভারেস্টের চূড়ায়,  যদি লড়তে হয় রূপকথার রাক্ষসের সাথে,  যদি হেঁটে যেতে হয় দিগন্তের শেষ সীমানায়,  যদি পেরোতে হয় জ্বলন্ত আগুনের পথ, যদি অতিক্রম করতে হয় দুর্গম পথ — তাহলে জেনে রেখো,   তোমার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আমি এইসব বাধা সহজে অতিক্রম করতে পারি।

ছড়া:- তালপুকুরের মাঠে।

      ছড়া:- তালপুকুরের মাঠে।        লেখক:- সোহন ঘোষ। সূর্য উঠেছে গগনে,   আলো ছড়ায় চারিধারে।   আজ আমরা যাব খেলতে —   তালপুকুরের মাঠের ধারে। তালপুকুরের মাঠে,   সারি সারি তালগাছ।   বক বসে পুকুরপাড়ে,   ধরবে নিশ্চয়ই মাছ! বাতাসে জল,   করছে টলমল।   সূর্যকিরণে জল,   করছে ঝলমল। খেলবো আমরা,   সবাই একসাথে।   কাটবে দিনটা —   আনন্দের সাথে !

ছড়া:- আয় দাদা, বাড়ি আয়

      ছড়া:- আয় দাদা, বাড়ি আয়।       লেখক:- সোহন ঘোষ। আয় দাদা, বাড়ি আয়,   মামা এসেছে, দেখবি আয়।   মিষ্টি এনেছে এক হাঁড়ি —   আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাবে কাল মামারবাড়ি। মামার বাড়িতে ভারি মজা,   খাব আমরা দই, মিষ্টি, গজা।   আয় দাদা, বাড়ি আয়,   মামা আর কী এনেছে —   দেখবি যদি জলদি আয়!

মা, করলাম আজ প্রতিশ্রুতি

 কবিতা:- মা, করলাম আজ প্রতিশ্রুতি।          লেখক:- সোহন ঘোষ  মা, আমি হব — আদর্শ ছেলে। সকালে ঘুম থেকে উঠব আমি সবার আগে, নিজের সব কাজ করব নিজে —   হাসিমুখে, শান্তভাবে। তুমি যা বলবে মা,  পালন করব অক্ষরে অক্ষরে। করব না বায়না,   করব না দুষ্টামি, গুরুজনদের দেব   শ্রদ্ধা, সম্মান আমি। অপমান হয় তোমার —   এমন কাজ করব না আমি। পড়ব আমি মন দিয়ে   সারাটি দিন, বড়ো হয়ে গড়ব ঘর   তোমার জন্য একদিন। আর কিনব একখানি গাড়ি —   মাগো, গাড়ি চেপে   দেব আমরা দিগন্তে পাড়ি।

সমাজসেবকের ভন্ডামী

  গল্পের নাম: সমাজসেবকের ভন্ডামি।           লেখক:- সোহন ঘোষ। ডাকনাম তার চমকদা। ভালো নাম হাবু পাল। ভারী কৃপণ লোক। এতই কৃপণ যে, টাকার ভয়ে সারা জীবন বিয়েই করল না। যদিও তার পৈতৃক সম্পত্তি কম নয় — গ্রামে কয়েক বিঘে জমি আছে, শহরে দুটো বাড়ি আছে। সেই বাড়িগুলো ভাড়া দেয় এবং সেখান থেকে একটা মোটা অংকের টাকা পায়। এছাড়াও তার ব্যাংকে মোটা অঙ্কের টাকা আছে। সেদিন চমকদার এক বিয়েবাড়িতে নেমন্তন্ন ছিল। সেজেগুজে, জামা-প্যান্ট পরে বাড়ি থেকে বেরোল। কিছুদূর হেঁটে এসে স্ট্যান্ডে দাঁড়াল। সেখান থেকে টোটো, অটো, বাস—সবই পাওয়া যায়। টোটো এল, চমকদা হাত দেখিয়ে থামাল। — “যাবে স্টেশনে?” — “হ্যাঁ যাব।” — “কত নেবে?” — “এখান থেকে স্টেশন ২০ টাকা হয়।” — “কি বলো! এখান থেকে স্টেশন ২০ টাকা?” — “সবাই তাই নেয়। আপনি অটো, বাস যেটাতেই যাবেন সেই একই টাকাই লাগবে।” এই শুনে চমকদা দরদাম শুরু করলো: — “আচ্ছা ভাই, কিছু কি কম হবে না?” — “না দাদা, কিছু কম হবে না। কুড়ি টাকার আর কি কমাবো!” — “আচ্ছা ভাই, ৫ টাকা কমাও না।” — “না দাদা, কিছু কম হবে না।” — “তাহলে ৩ টাকা কমাও।” — “হবে না দাদা, এখান থেকে স্ট...

ছড়া:- ও খোকনের মা।

            ছড়া:- ও খোকনের মা।             লেখক:- সোহন ঘোষ।  - ও খোকনের মা — খোকন গেছে কাদের বাড়ি, বলো তা? - আমার খোকন গেছে মামার বাড়ি,  হাতে নিয়ে মিষ্টির হাঁড়ি। - ফিরবে কবে সে বাড়ি? - ফিরবে আজ রাতারাতি? -ভয় পাবে না তোমার খোকা?  এত রাতে আসবে সে একা!  - কোথায় একা?  সঙ্গে থাকবে তার মামা।  আর থাকবে তার কু কুর ছানা।

ধর্ম থাকুক, তার সঙ্গে থাকুক মানবতা

   কবিতা:- ধর্ম থাকুক, তার সঙ্গে থাকুক মানবতা     কবি:- সোহন ঘোষ  আনিস নামে ছেলে এক,         গ্রামে তার বাস।  স্নিগ্ধ চোখে দেখে সে সব,          হৃদয়ে তার প্রকাশ। সেদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে,      হঠাৎ দেখে চমকে - গ্রামের আলিম চাচা পড়ে আছেন      রাস্তায়, অচেতনভাবে। ছুটে এলো আনিস-      জলের বোতল হাতে,  স্নেহভরা মনে করিলো তার সেবা,        তার পাশে বসে। হঠাৎ এক বুড়ি দেখে সব,       চোখ বড় বড় করে বলে  "তুই হিন্দু, সে মুসলমান!         ছুয়েছিস তাকে? ধর্ম ভুলে জল দিলি?         করলি তুই অঘটন!   ভগবান তোকে কোনোদিন        করিবেন না ক্ষমাপন!" হেসে বলল আনিস তখন,         নরম, শান্ত স্বরে-  "আমার ধর্ম মানুষ,         এটাই আমার পরিচয়। ভেবে দেখো, বুড়ি মা-      জল না দিলে,  মরতেন আলিম চাচ...

ছড়া:- ও টিয়া।

              ছড়া:- ও টিয়া।               লেখক:- সোহন ঘোষ । টিয়া পাখি, টিয়া পাখি —   কি সুন্দর তোমার গান! কোথায় যাও চলি?   আমাকে শোনাবে না গান? টিয়া পাখি, টিয়া পাখি —   তুমি থাকো কোন দ্বীপে? সোনালি না রূপালি দ্বীপে —   তা কি জানতে পারি চুপে? টিয়া পাখি, টিয়া পাখি —   করবে কি আমায় সাথী? চলো, একসাথে দিগন্তে দিই পাড়ি —   তুমি-আমি হবো চিরসাথী।

ছড়া:- রঙিন সকাল।

              ছড়া:- রঙিন সকাল।               লেখক:- সোহন ঘোষ। সূর্য উঠেছে গগনে,           ফুল ফুটেছে বাগানে। বাজছে ঘণ্টা মন্দিরে,           বইছে হাওয়া উত্তরে। চাষি যাচ্ছে মাঠে,          শিশুরা মন দিয়েছে পাঠে। পাখিরা গান গায় গাছের ডালে,          প্রজাপতি ওড়ে ডানা মেলে। মাছেরা খেলা করে নদীর জলে,          অলি ওড়ে ফুলে-ফুলে। এই সব দেখতে লাগে বেশ,        স্রষ্টার হাতে গড়া — কী সুন্দর দেশ!