শিকারির ছায়ায় প্রকৃতির নীরবতা
অনুগল্প:- শিকারির ছায়ায় প্রকৃতির নীরবতা।
লেখক:- সোহন ঘোষ।
সূর্য উদিত হইয়াছে। পুষ্প বিকশিত হইয়াছে।চারিদিকে সবুজের সমারোহ, পাখির কূজন, নদীর কলকল ধ্বনি—জীবনের এক অপরূপ পরিপূর্ণতা যেন একটিমাত্র প্রভাতে ধরা দিয়াছে।
আকাশ ময়ূরের পাখার ন্যায় কোমল, গাছের পাতায় রৌদ্রের ঝিলিক লেগে রঙের খেলায় মেতে উঠিয়াছে বনাঞ্চল।
অলি পুষ্পে ওড়ে, পাখিরা বৃক্ষশাখায় বসিয়া নদীর জলে আহার খোঁজে, তৃণভূমির টাটকা ঘ্রাণ বাতাসে ছড়াইয়া পড়ে।
এই শান্তিময় প্রাকৃতিক দৃশ্যপটে হঠাৎ দৃষ্টিগোচর হয়—নদীতীরে কতকগুলি সিগারেট পড়িয়া রহিয়াছে, মানবপদচিহ্ন শুকনা মৃত্তিকায় স্পষ্টভাবে আঁকা।কে এসিয়াছিল? কেন?
প্রকৃতি তাহার নিজস্ব সুরে গীত গাইতে থাকে। তাহার নিরব সঙ্গীতে কোনো বিঘ্ন ঘটে না। নদী, বৃক্ষ, পাখি—সকলই চলিয়া যায় স্বাভাবিক নিয়মে।
কিন্তু ঠিক সেই সময়… চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রম দৃশ্য।
তৃণের উপর এক নির্জীব পক্ষী পড়িয়া আছে। শিশিরসিক্ত ঘাসের ডগাগুলি যেন নিঃশব্দ শোকবার্তা বহন করিতেছিল।তাহার ক্ষুদ্র পদযুগল দুটি পুষ্পের মাঝে লুকানো।
কারা যেন তাহাকে অনন্ত নিদ্রায় পাঠাইয়া দিয়াছে।
তৃণভূমির উপরে পাখিটি তাহার বক্ষে গুলির গভীর ক্ষত লইয়া নিঃশব্দে শুয়ে আছে।
এখানে আর কোনো সুর নেই, নেই কূজন—শুধুই নিস্তব্ধ মৃত্যু।যাহা কিছু ছিল, তাহা যেন শুষিয়া লইয়াছে প্রকৃতি নিজে।
দূরবর্তী প্রান্তে দেখা গেল—কয়েকজন মনুষ্য ধীরে হেঁটিয়া চলিয়াছে। কাহারো হাতে বন্দুক, কাহারো কাঁধে ব্যাগ।
তাহাদের একজনের হাতে ছিল একখানি লৌহ নির্মিত তীক্ষ্ণ বর্ষা—তাহাতে গাঁথা এক রক্তাক্ত, সদ্যধৃত মাছ।
পেছনে পড়িয়া রহিল এক নির্বাক পক্ষী—প্রকৃতির সঙ্গীত থেমে গিয়া যেন আজ টিকে রহিল কেবল শিকারির আনন্দ।
বনের নিবাসী সেই গায়ক পক্ষীটি—যে প্রতিদিন প্রভাতে জীবনকে সুর দিত,
নদীর স্বচ্ছ জলে ঘুরিয়া বেড়ানো নিরীহ মাছটি—যে ছিল জীবনের ক্ষুদ্র অথচ আবশ্যক ছন্দ,তাহারা কী অপরাধ করিয়াছিল?
শুধু অস্ত্রধারীর রুচি ও ক্রীড়ার শিকার হইয়া, তাহারা আজ নিস্পন্দ, নিরপরাধ, অনন্ত ঘুমের দেশে।
------------------------------------------------------------------------------------------------👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇
বিঃ দ্রিঃ-
“গল্পটির ভাবনার প্রেরণায় ফরাসি কবি Arthur Rimbaud-এর কিছু কাব্যিক ছায়া রয়েছে, তবে কাহিনি, ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি একান্তভাবেই লেখকের।”
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন