ফিরি কবিতায় আগ্নেয় কলম হাতে।
কবিতা:- ফিরি কবিতায় আগ্নেয় কলম হাতে।
কবি:- সোহন ঘোষ।
ভেবেছিলাম — আমি লিখবো কবিতা, রাত-দিন-ভোর।
করব না কোনো কাজ, করব না চাকরি-ব্যবসা।
সারাদিন বসে কবিতা লিখব — এই আমার ইচ্ছা।
কিন্তু যেই বসি কবিতা লিখতে — দেখি, নেই কালি কলমে।
কলম কিনতে লাগবে টাকা কিংবা পয়সা...
কিন্তু পাবো কোথায়? পকেটে যে খালি!
তাই শত বিরক্তির সত্ত্বেও, কবিতা ছেড়ে উঠে যেতে হয় কাজ করতে।
জীবন তো আর কবিতার মতো সহজ নয়।
তা বলে ভেবো না তুমি — সোহন বন্ধ করে দিয়েছে কবিতা লেখা।
মাঝে মাঝে সময় পেলে, অগ্নেয় কলম দিয়ে লিখব কবিতা।
আবার আসিব ফিরে, নতুন কোনো কবিতা নিয়ে — তোমাদের মন জয় করতে।
হয়তো আজ কলম থেমেছে পরিস্থিতির চাপে,
কিন্তু কালি পেলে আমার আগ্নেয় কলম লিখবে কবিতা — আগুনের ধাঁচে।
পরিস্থিতি যাই আসুক — কবিতা লেখা ছাড়বো না।
একদিন সব বাধা পেরিয়ে ফিরবো আমি কলম হাতে।
তখন শুধু সোহনের লেখা কবিতা থাকবে তোমার দুই নয়নের সামনে।
অপেক্ষা করো একটু সময় — আবার সোহনের কলম আগুন ছুঁবে।
তুমি ভাবছো, সোহন হার মেনেছে; পারবে না আর কবিতা লিখতে...
তা নিয়ে করছো আমার নামে সমালোচনা!
আমি থামিনি — সময় নিচ্ছি শুধু।
শব্দে শব্দে ফিরব আমি, রক্তে লেখা কবিতা নিয়ে।
হারিনি আমি, হারতে শিখিনি আমি - শিখেছি লড়ে জিতে নিতে।
আবার আসিব আমি ফিরে — পৃথিবীর কোলে, ছন্দে বাঁধা নতুন কোনো কবিতা নিয়ে।
শুনে রেখো — আগুন নিভে গেলেও ছাই থাকে,
আর ছাইও একদিন কালবৈশাখীর ঝড় তোলে — নিঃশব্দ বিদ্রোহে।
কাগজ যদি না থাকে, মাটি তো আছে — তাতে লেখার জন্য সোহনের হৃদয়ে ভাষা আছে।
কলমে কালি না থাকলেও, শরীরে রক্ত আছে!
আমি এখন চুপ আছি, কিন্তু ফিরে আসবো আমি — আগ্নেয় কলমে লেখা কবিতা হয়ে।
জীবন যখন পথ দেখায় কাজে — পেট চলে না অভাবে।
তখনও আমার মন চায় কবিতা লিখতে।
কিন্তু শুধু কবিতা লিখলেই হবে না — তার সঙ্গে যে করতে হবে কাজ আমায়!
নিজের জন্য না — দেশের জন্য করিতে হবে আমায় কাজ,
কারণ আমি যে দেশের ভবিষ্যৎ।
আমার রক্তে বয়ে চলে কবিতার ধারা —
কাজ করি বটে, তবু কলম কখনো ছাড়বো না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন