শিক্ষাতেই নিহিত সত্যজয়

     কবিতা:- শিক্ষাতেই নিহিত সত্যজয়।

            কবি:- সোহন ঘোষ।


পিতাকে দেখিয়া পুত্র জিজ্ঞাসা করিল,—"

তুমি এতোক্ষণ কোথায় ছিলে, কহ মোরে,

যে গৃহে ফিরিলে না, গত দিবানিশি?"


পিতা কহিল,—

"ছিলাম আমি হসপিটালে, রমনের নিকটে।"


রমনের নাম শ্রবণ করিয়া পুত্র ভীষণরূপে ক্রুদ্ধ হইল,—

"পিতা, তুমি কি ভুলিয়া গেছ রমনের অত্যাচার?

যে রমন তোমাকে ঠেলিয়াছিল আঁধারে,

যে চাহিয়াছিল তোমার অনিষ্ট মনেপ্রাণে,

তাহার সেবা করিয়াছো তুমি দিবানিশি জাগিয়া!

তুমি কি ভুলিয়া গেছ তাহার দান করা আঘাত?"


পিতা মৃদু হংসিতে হংসিতে কহিল,—

"আঘাত কি কভু বিস্মৃত হয়, পুত্র?

মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তাহার চিহ্ন মনে গাঁথিয়া থাকে।"


এই শুনি পুত্র কহিল,—

"তবে তুমি কেন, পিতা, তাহার অনিষ্টর কথা চিন্তা না করিয়া,

তাহার সেবা করিতে গেলে?"


পিতা পুত্রের কাঁধে কর স্পর্শ করিয়া কহিল,—

"সে আপন কর্ম করিয়াছে—ঠেলিয়াছিল আমায় আঁধারে।

তবু আমি কেমন করিয়া ঠেলিব তাহাকে সেই আঁধারে?

সে অনিষ্ট করিয়াছে আমার,

তা বলিয়া আমি কিরূপে করিব তাহার অনিষ্ট?

তবে রমন ও আমার মধ্যে পার্থক্য কী থাকিল?


রমন তো আমার জীবনের গুরু।

সে যদি আমায় বেদনা না দিত,

তবে আমি কভু আনন্দ চিনিতাম না।

সে যদি আমায় দুঃখে নিমজ্জিত না করিত,

তবে আমি কভু সুখের স্বাদ অনুভব করিতাম না।


খারাপ সময় কাটিয়াছি বলেই আজ ভালোবেসে আঁকড়ে ধরি।

সে ছিল ছদ্মবেশে,

তার মুখে ছিল বন্ধুত্বের অভিনয়।

তাহাকে দেখিয়া আমি শিখিয়াছি—

প্রকৃত বন্ধু কিরূপ হয়।


সে আমায় আঁধারে ঠেলিয়া দিয়াছিল বলেই,

আমি আজ আলোর প্রকৃত মূল্য জানি।

আঁধারের মধ্যে বিচরণ করিয়াই,

আমি শিখিয়াছি আলোর সন্ধান করিতে।


তাহার অনিষ্ট আমি চাহি না, তাহার মৃত্যুও নয়।

চাহি কেবল এইটুকু—

সে যেন উপলব্ধি করিতে পারে নিজ দোষ,

 তাহাকে যেন আমি দিতে পারি উপযুক্ত শিক্ষা।

প্রতিশোধ নয়—

শিক্ষাতেই নিহিত সত্যজয়।



---

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছড়া:- চললো খোকা

ছড়া:– বাগানের মালি কাঠবিড়ালি।

ছড়া:- খোকার মামার বাড়ি