পোস্টগুলি

মামার বাড়ি

                            মামারবাড়ি                          সোহন ঘোষ                                                       (এক)     একটা কুৎসিত রটনা কিংবা মিথ্যা অপবাদের ক্ষমতা যে কতটা?— তার ধারণা পেয়েছিলাম ক্লাস নাইনে। চৈত্রমাসের শুকনো বনে লাগা দাবানল যেমন এক নিমেষে সবুজ অরণ্য পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে, তেমনি একটি অপবাদও ধীরে ধীরে একটি জীবন্ত মানুষকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। বিশেষত সেই মানুষটি যদি হয় কাঁচের মতো স্বচ্ছ, মাটির মতো নরম, আর গঙ্গাজলের মতো পবিত্র হৃদয়ের অ...

সন্ধ্যাবাজি

                        সন্ধ্যাবাজি                         সোহন ঘোষ  ঝকঝকে ওই চাঁদ দেখি আজ, চকচকে ওই আকাশে, শিরশিরানি করছে শরীর, ঝিরঝিরি ওই বাতাসে। ঝিকমিকিয়ে তারার মেলা, মিটমিটিয়ে আলো ছড়ায়, গুনগুনিয়ে গানটি গেয়ে হনহনিয়ে হেঁটে বেড়ায়। ঝিকমিকিয়ে ট্রেনটি ছুটে, টিপটিপিয়ে জলটি পড়ে, ঢকঢকিয়ে জল খেয়ে সে ঠকঠকিয়ে ঠোকা মারে।  ঘেউ-ঘেউ করে ডাকছে লালু, ম্যাঁও-ম্যাঁও ওই বিড়ালে, ব্যাঁ-ব্যাঁ করে ডাকছে ছাগল, কাকার বাড়ির ওই আড়ালে।  হটহটিয়ে রাস্তা হেঁটে, খক-খকিয়ে কেশে ওঠে; খিকখিকিয়ে আপন মনে একলা বুড়ি হেসে ওঠে। হোঁচট খেয়ে ধপাস পড়ে দিচ্ছে শুধু গড়াগড়ি, ভনভনিয়ে এসে মশা বড্ড করছে বাড়াবাড়ি। হৈ হৈ! রৈ রৈ! মার্ মার্! কাট্ কাট্! করে কে ওই চিৎকার? এইবেলা! এইবেলা! সরে পড়া ভীষণ দরকার! ২০ /০৫/২০২৬ ( পূর্ণভারতী )

ছন্দের ভুবন

 ছড়া: ছন্দের ভুবন লেখক: সোহন ঘোষ। রচনাকাল: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ছন্দের ধরন: স্বরবৃত্ত ছন্দ ( © Sohan Ghosh ) ছন্দে ছন্দে কাব্য লিখি, ছন্দে ছন্দে রাস্তা হাঁটি। ছন্দে ছন্দে লালু ডাকে, রাস্তার ওই মোড়ের বাঁকে। ছন্দে ছন্দে চলে গাড়ি, ছন্দে ছন্দে গল্প করি। ছন্দে ছন্দে গান শুনে, নেচে উঠি আনমনে। ছন্দে ছন্দে ঘড়ির কাঁটা, ছন্দ মেপে সময় বলে। ছন্দে ছন্দে গাড়ির চাকা, রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে চলে। কত রকম ছন্দ আছে, আমাদেরই ভুবন মাঝে। ছন্দ সেসব শুনতে গেলে, মনটা দাও দ্বন্দ্ব ভুলে। ছড়া: ছন্দের ভুবন লেখক: সোহন ঘোষ। রচনাকাল: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ছন্দের ধরন: স্বরবৃত্ত ছন্দ ( © Sohan Ghosh )

দুটি কবিতা

দুটি কবিতা লেখক: সোহন ঘোষ।      ( Sohan Ghosh )                           ১ যাচ্ছ কোথায় একলা একা,       মেলে দিয়ে রঙিন পাখা! সন্ধে বেলা পড়ার ঘরে       মন দিয়ে সবাই পড়া করে। বাঁধা-ধরা সেই নিয়ম ভেঙে       উড়ছ তুমি আকাশ পানে— পড়াশোনায় দিচ্ছ ফাঁকি,       করে না কেউ বকাবকি! হেডস্যারের মতো চোখটি করে       তাকাও যদি আমার দিকে, ভাবছো বুঝি ভয় পেয়ে আজ      পড়বো আমি বিষম শোকে? মা বলেছে— “দোষ না করলে      ভয় পাবি না কারোর ছলে!” তাই যতই চোখ রাঙাও তুমি,      ভয় পাবো না একটুও আমি।                       ২ আয়রে খোকন, বাড়ি আয়       ভাত খেয়ে শুবি আয়। বিকেলে যাব মামার বাড়ি,       সঙ্গে নিয়ে মিষ্টির হাঁড়ি। • ১৮ মার্চ ২০২৫

শ্রীকান্তের অপবাদ ( পর্ব: ‌২ )।

শ্রীকান্তের অপবাদ ( পর্ব: ‌২ )। লেখক:– সোহন ঘোষ। লেখকের কথা:–  “শ্রীকান্তের অপবাদ” একটি সামাজিক ছোটগল্প, যা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। গল্পটির বিষয়বস্তু এখানে আলাদা করে উল্লেখ করলাম না। আমার বিশ্বাস, লেখকের ব্যাখ্যার চেয়ে পাঠকের নিজস্ব পাঠ-অভিজ্ঞতাই বেশি মূল্যবান। গল্পটি মন দিয়ে পড়লে তার অন্তর্নিহিত ভাব ও বক্তব্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধরা দেবে। ──────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────── এপ্রিল মাসে আমাদের প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন পরীক্ষা হলো। সেই পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার দিন আমাদের মধ্যে বেশ একটা চাপা উত্তেজনা ছিল। আমি, রাজ আর অরিজিৎ আগের দিনই ঠিক করেছিলাম—তাড়াতাড়ি গিয়ে একেবারে পেছনের বেঞ্চটা দখল করব। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা মাঠে মারা গেল; ক্লাসে ঢুকতেই আমরা দেখি পেছনের সব জায়গা দখল হয়ে গেছে। যদিও সেদিন আমাদের ক্লাসে খুব বেশি ছাত্রছাত্রী আসেনি।  অগত্যা শ্রীকান্তকে প্রথম বেঞ্চে বসিয়ে দিয়ে আমরা তার ঠিক পেছনের বেঞ্চটাতেই বসলাম। টিফিনের আগের ক্লাসে সুমন স্যার হাতে একটা খাতা নিয়ে আমাদের ক্লাসে প্রবেশ করলেন। স্যারের হাতে...

শ্রীকান্তের অপবাদ (পর্ব: ১)।

 শ্রীকান্তের অপবাদ।       শ্রীকান্তের অপবাদ (পর্ব: ১)।         লেখক:- সোহন ঘোষ।           ( Sohan Ghosh ) ──────────────────────────────────────────────────────────────────────────────────── লেখকের কথা:–  “শ্রীকান্তের অপবাদ” একটি সামাজিক ছোটগল্প, যা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। গল্পটির বিষয়বস্তু এখানে আলাদা করে উল্লেখ করলাম না। আমার বিশ্বাস, লেখকের ব্যাখ্যার চেয়ে পাঠকের নিজস্ব পাঠ-অভিজ্ঞতাই বেশি মূল্যবান। গল্পটি মন দিয়ে পড়লে তার অন্তর্নিহিত ভাব ও বক্তব্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধরা দেবে।              ১        সে বছর আমরা ক্লাস সেভেন পেরিয়ে ক্লাস এইটে উঠেছি। বয়স তখন ঠিক সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে—যেখানে শৈশবের শেষ আলোটা তখনও ম্লান হয়নি, অথচ কৈশোর ইতিমধ্যে এসে কাঁধে হাত রেখেছে। নতুন ক্লাসরুম, নতুন বেঞ্চ, নতুন বইয়ের গন্ধে ভরা প্রথম দিনের ভিড়েই চোখে পড়েছিল এক অপরিচিত মুখ। পরে আলাপ হতে জানলাম, ছেলেটির নাম শ্রীকান্ত বিশ্বাস। বাবা মারা যাওয়ার পর শ্রীকান্ত ছিল অনেকটা বেড়াহীন চারাগাছের...

বোলতা কহে, বোলতানি।

বোলতা কহে, বোলতানি।  লেখক:– সোহন ঘোষ। রচনাকাল:– ১৪ জানুয়ারি ২০২৬।  ২৯ পৌষ ১৪৩২। বোলতা কহে, বোলতানি।         খাসা তোর গুনগুনানি। শুনলে তোর গান,          ভরে ওঠে মন-প্রাণ। রাত হোক বা ভোর,          শুনতে গান তোর। ছুটে আসবে সবাই–           দিল্লি হোক বা মুম্বাই। এমন সুর পাবে কোথায়!         ছত্রিশ রাগিনী তোর গলায়। আয়রে বাঘ–              নিয়ে ঢাক আয়রে হেঁটে আয়।                 আয়রে বানর– নিয়ে কাঁসর             আয়রে হেথা আয়। আয়রে শিয়াল,        আয়রে বিড়াল, আয়রে পেঁচা-প্যাঁচানি,         গাছের তলায় এখুনি! গান গাইবে বোলতানি।